New

শ্বেতপত্র

আশুতোষ বিশ্বাস এর গুচ্ছ কবিতা





পাখিপ্রবণ


রাস্তা লাগোয়া ঘরের উঠোন 

উঠোন থেকে পা বাড়ালেই সদর সড়ক  

কেউ কাউকে সেভাবে লক্ষ্য করে না 

আজকাল কিছু-মিছু একটা কথার সূত্র ধরেই

শুভাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠা যায়—ভাবনা এমন 

ভাব জমায়, ভাব জমুক না জমুক ওইটুকুই   

বাইরে থেকে কেউ কিছু বুঝবে না


এ পাড়ায় উঠে আসা নতুন কিছু ছেলে মেয়ে

এত শান্ত—এত শান্ত, ওরা নিজেরাই জানত না—  

মোড়ের কোণে পার্কের রেলিং –এ হেলান দিয়ে

চাঁদের প্রণয়দৃশ্য দেখতে দেখতে 

একদিন তারা পাখি হয়ে আকাশে উড়াল দিল   

 ----------------   


অনন্তের ছোঁয়া

 

দীঘল ঘুমের শেষে উথলে উঠা সস্পেনে ফেদদুগ্ধ-সকাল   

সজনের ঝিরি ঝিরি পাতায় প্রাণের প্রেরণা 

আমার অবর্তমানে খোলা জানালায় এভাবেই হাওয়া এসে  

কেঁপে উঠবে কী ভারি পর্দা আমি তো জানি না !  


তারকা চিহ্নিত আমার রাত্রে লেখা কবিতার ফুটনোট     

পা ডুবিয়ে পড়ে আছে গ্রন্থের অন্তিম পরিচ্ছেদে

চোখের আলোয় থাকা সূর্যাবর্তের শেষ রশ্মিকণা ধন্য 

এই চোখ— উন্মুক্ত করো না, অস্থির যৌবনখেদে 


আকাশ এখানে পবিত্র, বাতাসে যদিও ধুলো বালি ধোঁয়া

যতিচিহ্নহীন মানুষ চলেছে ছুঁতে মানবের অনন্ত ছোঁয়া। 

-------------------- 

স্পন্দন

 

শবদেহে ভরে গেছে আমাদের এই গ্রহ 

মৃত্তিকার ঘুমদেশে স্বপ্নের কলহ চলেছে প্রত্যহ

আমরা তবুও মৃতবৎসা চারাগাছে

সকাল সন্ধে জল ঢালি

সমবেত প্রার্থনা রাখি হৃদয়ের কাবাঘরে 


আচানক কার শাপে 

আমাদের আজকের এই প্রাপ্ত জীবন

প্রেমধন অমূল্য রতন জেনে

প্রাণের অযুত বাসনা 

চরিতার্থ করে যেতে বার বার জীবন চক্রব্যুহে 

আসব পরিনিবৃত্তি ঘোরে মোমবাতি হয়ে জ্বলে জ্বলে

নিঃশেষ—তারপর ?


আমাদের হিমদেশে সূর্যের গান

উপদ্রুত বন্যার দেশে স্বেচ্ছাসেবক কোমরে গামছা বেঁধে

ধ্বংসস্তূপের জঞ্জালে সতর্ক চোখ রেখে  

খুঁজে চলেছেন প্রাণের স্পন্দন 

 -------------------


বাবা

 

বাবা বিকেলবেলার মংলার হাট করে  

ফেরার সময় খোস মেজাজে এন্ড্রুকিশোরের 

‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’— 

গানটি গাইতে গাইতে ঘরে ঢুকতেন

মা, বাবার গান শুনে বাইরে বেরিয়ে আসতেন, বুঝে নিতেন—  

আজ হাটে মাথায় করে জমি থেকে যে সব সব্জি নিয়ে গিয়েছিলেন  

তা সব বিক্রি হয়ে গেছে, কাঁচা সবজি বেচে কাঁচা পয়সা 

হাতে এসেছে, কাজেই মেজাজ ভাল।

বিক্রিবাট্টা শেষে, 

হাটের ক্ষুদি ময়রার দোকান থেকে একপোয়া গুড়ের জিলিপ কিনে 

গামছার কোচড়ে বেঁধে আমার হাতে ধরিয়ে দিতেন

আমি মহানন্দে সেই অমৃত বুকে জড়িয়ে বাবার পিছু পিছু আসতাম  

সেই স্বর্গীয় গুড়ের জিলিবির সুবাস এখনও আমার জিভে 

লেগে আছে, নাকে লেগে আছে সেই সুগন্ধ


পৃথিবীর সবচেয়ে নামি রেস্টুরেন্ট, স্পেশালিস্ট জিলিবি প্রস্তুতকারী  

হাজারও দোকানদারের জিলিবি খেয়েছি  

সেই স্বাদ আমি আর পাইনি

   

সেই স্বাদ আর গন্ধ আমি ঘুমের মধ্যে টের পাই 

সেই গামছা কোমরে জড়িয়ে বাবা অনেকদিন 

নদীতে নাইতে গেছেন আজও ফিরে আসেননি 

---------------


সোনামুখী ঘাট


আমরা সেদিন সবাই মিলে হয়েছিলাম—উচ্ছৃঙ্খল 

আমরা সেদিন সবাই মিলে তুলেছিলাম সুর

বইমেলা ফেরত শুন্য পকেট—তবু পূর্ণ ছিল হৃদয়

সেদিনটা আজও জিন্দা আছে থাকি না যতই দূর


চায়ের পরে চা খেয়েছি—বলেছি, কথার পরে কথা

আলাপি সেই মধুর স্মৃতি শীতের মিহি গুড়ো

তেমন করে আর এলো না—বর্ষ গেল ঘুরে 

কাঁটাতারের বেড়ার ওপার— বন্ধু পাহাড় চূড়ো 


বাঁশি বাজে প্রাণের মাঝে— আমার সোনামুখী ঘাট 

ধরলার বুকে লাগলে বাতাস এখানে জলের ছাট

-----------------  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ

  1. تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
    (তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)

    অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।

    ঈদ মোবারক🌙

    উত্তরমুছুন

অমার্জিত মন্তব্য করে কোনো মন্তব্যকারী আইনী জটিলতায় পড়লে তার দায় সম্পাদকের না৷