স্রোতের বিপরীতে হাঁঁটা কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক সাম্য রাইয়ানের নতুন কবিতার বই ‘জলের অপেরা’ অমর একুশে বইমেলা-২০২৪ এ প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমান সময়ে লেখা ক্ষুরধার কবিতার সম্মিলন এ কাব্যে অনন্য উচ্চতায় স্থান পেয়েছে। প্রত্যাশা রাখি 'জলের অপেরা’ পাঠক প্রিয়তা পাবে। 
প্রকাশক: ঘাসফুল প্রকাশনী। 
প্রচ্ছদ: রাজীব দত্ত।
ঘাসফুল প্রকাশনীর ১৪৭-১৪৮ স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
শুভ কামনা সাম্য রাইয়ান, শুভ কামনা 'জলের অপেরা’। 
সাম্য রাইয়ান জলের অপেরা


সাম্য রাইয়ানের পাঁচটি কবিতা


নিউটন

নিরাকার— জলের সাইরেন৷
এলো আমফান— সাফোর 
কলোনীতে৷ বৃষ্টিবৈভবে 
জেগে উঠি
শব্দ হয়

নিউটন, আপেলতলায় থাকো
বাড়িতে যেও না

বাড়িতে হৃদয় নেই
মানুষভর্তি বেদনা৷


আত্মজীবনী

অর্ধেক জীবন গেল
তোমার দিকে চেয়ে,
বাকি অর্ধেক
তোমার কথা ভেবে!


স্ববৈকুণ্ঠ

বদলে যাচ্ছো। জলবায়ু ঠেলে রোজ 
অগ্রসর হচ্ছি তোমার দিকে।

সমস্ত দিনের ভ্রান্তি ভেঙে রাত্রির উষ্ণতা 
ছিল জ্যোতিষ্মান, অতিসঙ্গত কাল্পনিক। 
তবু অপরাধীদের সংকল্প আমার মধ্যে 
ব্রাহ্মক্ষণে উচ্ছল চরিত্রের উদাসীনতা।

শিশু সওদাগর, আশাহীন মানুষ আর 
তোমার মিষ্টিকণ্ঠ মোবাইলে লিখে রাখলাম।

জলধ্যানে জেগে ওঠা মনোরম ছবি 
অন্তহীন প্রেমে স্বধর্মে প্রতিষ্ঠিত।

হালের কারুকার্য দেখে সতর্ক হয়েছি খুব 
যৌক্তিক দেহে তবু বিষাদের শৌখিন অনুপ্রবেশ 
যতই জীবন্ত হোক কাষ্ঠখণ্ড-আগ্নেয়গিরি
মৈত্রীভাবনা ছুঁড়ে, রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার দিকে 
আমি তো যেতেই চাই, হৃদয় মানে না।


বিবাহবার্ষিকী

বিবাহবার্ষিকীতে নিষ্পত্র ছিলাম। অঘোষিত 
ভঙ্গিতে নেমে এলো প্রেম, যেভাবে সন্ধ্যে নামে
ব্রহ্মপুত্র তীরে। সম্মোহনী সংগীতে জাগে 
কুয়াশার সমূহ কম্পন। নিয়তিবৃক্ষ ছিঁড়ে যায়। 
চাঁদ নেমে আসে জলের মোহনা আর ফসলের ক্ষেতে।

নিউট্রাল বিউগলে জাগে দিনের সকল রাত। জগতে সকলই রাজনীতি আর আর্থিক আলোচনা
তবুও তখন দুমদাম লাল আমার নিটোল বুকে।


কুয়াশার দেবদূত

আপাত অর্থহীন চিত্রলেখার হাঁটাস্রোত

হুড়োহুড়ি নেই, তন্ময় রহস্যের দিকে 
গুঁড়ি মেরে আসছে অরোধ্য কিচিরমিচির

চন্দ্রশীতল রাত। 
চিরচেনা মরুদ্যানে জেগে ওঠে
যাতায়াতের পবিত্র পথ—

হাড় হিম 
নাইটগার্ড মৃদু হাসে ভয়ে
না কি বিষণ্ণতায়!

অস্থির কাঁপা কাঁপা বুকে
কৌতুহলী গার্ড, বাতাশে মাস্তুল গেঁথে 
দ্যাখে ঊষাময় অনিরুদ্ধ কাল
পাখিসম চিৎকারচিঁড়ে মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে—