সাসলাপেয়ালার পদাবলী
উব্বু
গরিব ফকির আমি নতমূখে থাকি
ঘোলাদিন ঝুপঝাপ নেমে আসে ধীরে
কাঠের জবান যদি ফিরে এইবেলা -
জানিনা কুসুম কেন থম ধরে থাকে
পৃথকবিছানা কেন গমখেত জুড়ে
বিড়ালেরস্নেহ মেখে হলুদ দিনের
লতিয়ে উঠছে গান হলকুম থেকে
পরমের দ্যাখা তবে পাব কী এবার
হবে কী দিদার এই নভোমণ্ডলে!
ঘোলাদিন ঘোলাদিন মুঠে মুঠে ধরে-
চুমুকেই শুষে নিব সাসলাপেয়ালা।
তবেই খুলবে জেনো কাঠের জবান
সন্যাস নিব ফের নেকমরদনে।
দশ
ফুলের অন্তরে তবু জেগে ছিল ঘুমের শহর
নদীপ্রাণ লালব্রিজে! শোভাকুসুমের ছেলে ভোরে
হারিয়ে গিয়েছে। হলুদ পাতারা ভুলে
দুনিয়ার আশপাশে কবর খুঁড়েছে যারা আর
কোনদিন ঘোড়ারমিনতি ঘিরে উবু হয়ে কাঁদবেনা ঠিকই।
লালেরপ্রহর যদি দুধকুমরের ঘাটে ঢুকে
করে সিনাজুরি। হাড়ের বল্কল খুলে তোলপাড়
তুলে দ্যাখো উঠবে ভ্রমণ!
এইবেলা মারো টান কঠিনশিলার হাত ধরে
আসবে নেমেই তবে দূরপ্রপাতের কাঠ খুলে
ভাষামহালেরই বুকে জাগাও সনেট তুলতুলে
দাও ওকে গূঢ় গান হারানোজনের চুপকথা!
বিশ
পাহাড়ের কাছে এসে দেখি এক ঘুম
তাঁবু ফেলে ছড়িয়েছে ব্যাপক বিস্তারে
আচানক ঋতুমতি ঘাসের কিনারে
ঝিকমিক কুপ্রভাব, শিফন শাড়িতে
কুশলাদি ছাতা তবু মেলে দিয়ে ভোর
কপাল ঠেকায় মৃদু। এই সানুতলে
তবু বিপুলা এক দ্বিধার করাত
উভকামে কুঁচকুঁচে কালোর জবানে
গভীর গোঙানি ওঠে লতিয়ে কোমল
ফকিরী উজিয়ে দ্যায় সাসলাপেয়ালা
দাও হাতে তিরোধান গাছের নিয়মে
নবীন কবির শোকে কাঁদুক পাহাড়!
তিরিশ
মেজেছি এ হাত আমি মাটিতে প্রবল
তবুও ওঠে না দাগ! রক্তের স্রোত
বারবারই ভাবি মনে জবান আমার
জড়িয়ে যাচ্ছে পাঁকে, টোটালি খতম!
কেউ থাকে মোরগের ডানাসুখ নিয়ে
অথবা চিকন কোনো রতির বিহারে
নক্ষত্রের রাতে। তবু এই করমচা
ফুলের কিনারে কূপিতশ্রাবণ কেন লুটপাট হয়,
রহমদিলের মেঘ কেন সরে যায়
অথবা ঢিঁবির নিচে যে পোকা ঘুমায়
তার কেন জবানীতে জমে এজাহার?
লুকিয়ে থেকেছি বহু গিরিখাতকূলে
স্থির নয়, বিচলিত রক্তাভজলে
আমার ভ্রমণ হোক রূপের বদল
আমার কবর তবে খুড়ুক কোদাল!




0 মন্তব্যসমূহ
অমার্জিত মন্তব্য করে কোনো মন্তব্যকারী আইনী জটিলতায় পড়লে তার দায় সম্পাদকের না৷