লেখক: আমিন সাদিক


নতুন ধারাার জনক বাংলা সাহিত্যে পালাবদলের কবিদের একজন কবি  ফাহিম ফিরোজের 'ভাতঘুম' কাব্যগ্রন্থ নতুন ধারার আঁতুড়ঘর। এই একটিমাত্র কাব্যগ্রন্থ পাঠ করলেই জানা যায় বাংলাদেশের লোকজ ভাষার উপর তাঁর দখল কতটুকু। সেই সাথে সম্পর্কবাচক শব্দের ব্যবহার একে স্বতন্ত্রও বৈচিত্র্যময় করেছে।তিনি তাঁর  শক্তিশালি কলমের খোঁচায় তুলে এনেছেন আবহমান বাংলার লোকজ অনুসঙ্গ, বিলুপ্তপ্রায় কৃষ্টি কালচার, ঐতিহ্য।  শুধুমাত্র এটির জন্যই তিনি বাংলা সাহিত্যে  চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


তথাকথিত আধুনিক কবিদের বুঝতে হবে, "ভাষা বেঁচে থাকে চর্চায় আর বিলুপ্ত হয় চর্চার অভাবে।" আমাদের হাজার বছরের পুরনোও প্রিয় বাংলা ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে নতুন ধারার কোনো বিকল্প নেই।হাজার বছরে আমাদের বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার থেকে হারিয়ে গেছে হাজারো লোকজ শব্দ।  নতুন ধারায় নতুনত্বও অভিনবত্ব দুইই আছে।


নতুন ধারার রয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট,উপবৈশিষ্ট সম্বলিত ইশতেহার যা আধুনিকও উত্তরাধুনিক কবিতার ছিলোনা; ছিলো শুধু পাশ্চাত্যও কলকাতার অন্ধ অনুকরণ, অনুসরণ। যদিও শিল্প সাহিত্যের প্রথম সমালোচক এরিস্টটল তাঁর  'পোয়েটিকস' গ্রন্থে বলেছেন  "অনুকরণ হল শিল্পের একটি কলা" তবে এতে স্বকীয়তা বিসর্জন দিয়ে দিতে হয়।


আধুনিকও উত্তরাধুনিক কবিদের  এবং কবিতার সাথে আমাদের কোনো নীতিগতও আদর্শিক বিরোধ নেই। আমরা বলছিনা সবাই কে নতুন ধারায় আসতে হবে। ভালো লাগলে, নতুনও যৌক্তিক  মনে হলে আসতে পারেন আবার নাও আসতে পারেন।এটা আপনার/ আপনাদের অভিরুচি।আমরা গায়ে পড়ে কিংবা পায়ে পাড়া দিয়ে লাগতে যাইনা।তবে তেনারা মাঝে মধ্যে আসেন এবং বাকযুদ্ধে লিপ্ত হন।তবে আমরা নতুন ধারায় নবীন প্রবীণ কবি, লেখক,প্রাবন্ধিক সবাইকে স্বাগত জানাই। সময়ই বিচার করবে কোনটা ঠিকবে আর কোনটা ঠিকবেনা আর কে থাকবে এবং কে থাকবেনা?

 জয়তু নতুন ধারা।