থমথমে মেঘাচ্ছন্ন রাত, ঘোলাটে বিবর
আধাফোটা হলুদ ফুল
কুকুরের বিবাদের শব্দ, বর্ষণ প্রত্যাশিত রাত-
পিছিয়ে পড়া লোকেরা ক্রূরতার মধ্যে
জেগে আছে। মুদিত তারার মতো মগজের ভেতরে
স্খলন- উগরে দিচ্ছে প্রচলিত প্রহসন, বিদ্রুপ
আর পুরনো কেচ্ছার মতো কিছু কড়া বিষ।
আজ কেউ কেউ নির্ঘুম মাঠে গেছে, মনে হচ্ছে
সেকেন্ডগুলো দাঁড়িয়ে আছে গাছের গায়ে গায়ে
হেলান দিয়ে- বুভুক্ষু বৈশাখ সমাসন্ন!
কয়েক প্রস্থ মৌলিক বেদনার নির্যাস নিয়ে,
কয়েক দিস্তা কাগজে মুদ্রিত দুঃসংবাদ নিয়ে
এই রাত এখন শুষ্ক তৃষিত করুণ-
যদিও আকাশের গায়ে ঝোলানো কিছু মেঘ আছে
কোনো একটা দুপুরে বা যে কোনো সময় তারা
নেমে এসে কিঞ্চিত তেষ্টা মেটাতে পারে শস্যের-
নাকি আরও কিছুদিন দেরি করবে কে জানে?
আজ এই কুপিত রাত বিবস্ত্র নত হয়ে আছে,
আজ এই নিরালা রাতে চিৎ হয়ে জেগে আছে-
ঘরে ঘরে কিছু লোক নির্জলা মুখে,
কড়কড়ে চোখ নিয়ে অতিদীর্ঘ প্রতীক্ষায়!
একেকটা বৈশাখ বিলাসবহুল মনে হলেও বস্তুত 
ভেতরে ভেতরে বয়ে যাচ্ছে শতদ্রুর বিষণ্ণ স্রোত,
কিছু মানুষ হাঁটাহাঁটি করে সুষুপ্তির মধ্যে-
কতো যে দুঃখ, দুঃস্বপ্ন নিয়ে সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগে!
বৈশাখের গতানুগতিক ঝড়ঝাপটা একটু একটু করে
চাউর হচ্ছে দলবদ্ধ নীরবতা ভাঙার জন্যে,
নিরালা মধ্যরাত; এখনও জলসিঞ্চিত হয় নাই-
ভীষণ পিপাসু টুঁটি, মাতৃজঠরে আলো ফোটার
এখনও অনেক দেরি হতে পারে।
পাশ ফিরে শুয়ে থাকা কে এক লোক-
একেবারে মলিন ঢেঁড়সের মতো দেখতে;
হঠাৎ হামাগুড়ি দিয়ে জানলার কাছে গেলো
খালি চোখে দেখে কি দেখে না রাতের উপহাস
চশমার কাচদুটো কুয়াশায় বশীভূত হয়ে
সাময়িক দ্বিধায় পড়ে আছে তেলচিটে বালিশের পাশে-
আজ অজ্ঞাত, অভুক্ত রাতে
সবাই ভুলে বসে আছে শ্রাবণ নয়, সমাসন্ন বৈশাখ!