লেখক: উত্তম কুমার দাস

মন যা সুস্থ্যভাবে গ্রহণ করে তাই মস্তিষ্কে পৌঁছায়। একথা কবি ফাহিম ফিরোজ সাহেব জানতেন। তাইতো এই নতুন ধারা। জীবনের ছোট ছোট সুখ দুঃখ দৈনন্দিন ঘটনা সামাজিক সমস্যা সব কিছুই উঠে আসে এই নতুন ধারায়। তবে প্রমিতের সঙ্গে আঞ্চলিকের একটা সংমিশ্রণ চাই। তার কারণ ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল ভিত্তিক ভাষাগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
এর সঙ্গে থাকবে আত্মীয়  বা সম্পর্ক বাচক  শব্দ। তবে এর গঠন হবে সংক্ষিপ্ত রস হবে প্রগাঢ়...…যাতে পাঠক সম্পূর্ণ কবিতা পড়ে রস আস্বাদন করতে পারে। অহেতুক টেনে টেনে বাড়ালে কিন্তু কবিতার সংযম বোধ হারিয়ে যায়। এই কথাগুলো মনে রেখে নতুন ধারায় লিখুন।

কবিতা কিন্তু সূক্ষ্ম হৃদয়ের অনুভূতি.. তাই নতুন ধরনের বৈশিষ্ট্য গুলি আমরা এভাবে বলতে পারি।

(১) নতুন ধারায় মানব জীবনের ছোট ছোট সুখ, দুঃখ, দৈনন্দিন ঘটনা, সামাজিক সমস্যার, বিভিন্ন দিক থাকবে।
(২) নতুন ধারায় প্রমিতের সঙ্গে আঞ্চলিকের একটা সংমিশ্রণ থাকবে।
(৩) নতুন ধারা আধুনিক কবিতার মত অতটা ব্যঞ্জনাময় আর জটিল হবে না কোন দুর্বদ্ধতা এখানে কাজ করবে না।
(৪) নতুন ধারায় আত্মীয় বাচক বা সম্পর্ক সূচক শব্দ থাকবে।
(৫) তবে কবিতার গঠন হবে সংক্ষিপ্ত এবং রস হবে প্রগাঢ়। অহেতুক টেনে টেনে বাড়ালে কিন্তু কবিতার সংযমবোধ হারিয়ে যায়।
(৬) নতুন ধারা কবিতার মূল উদ্দেশ্য হলো, ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে এনে প্রমিতের সঙ্গে সংমিশ্রণ ঘটানো। বাংলা ভাষার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করাই নতুন ধারার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য।

একটা কবিতাকে সর্বজনীন করতে হলে তার মধ্যে কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবনাগুলোকে সকলের হৃদয়ের  কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

আজন্ম অনুসন্ধান

উত্তম কুমার দাস

কালগর্ভের কালী হইয়াই  বাইচ্চা থাক মৃত পৃথিবীর কাল্পনিক অনুভূতি গুলান
মৃত সম্পর্ক গুলানের মাঝে বসুধা শুধু শোকের উত্তাপ ছড়াইয়া দেয়
পোড়া জন্মের নিঃসঙ্গতায়
খালাতো মামাতো ফুফুতো চাচাতো আর পাড়া তুতো সব সম্পর্কই স্বার্থর মাঝে বাঁধা 
কোনভাবে এদিক-ওদিক নড়ন চরণের জো নাই
পাপের হিসাব গুলান কখনোই জনমতে উজ্জ্বল ছিল না
তাই আমাগো বর্ণমালায় শুধু দহন...
কলম তো তরল রক্তের বাস্প জীবন খাইয়া নিঃসঙ্গতায় মৃত্যুরে ডাকে
 আগুন থেকেই তো সৃষ্টি হয় জন্মবোধ।

শালা পর্ব

উত্তম কুমার দাস

শালারা আইছিলো দেশটারে খাতে... ধম্ম ধম্ম করে ধুতি খুইল্যা গান্ডে প্যান্ট পইরা... লুঙ্গি টার দিকে নজর... দ্যাশটারে বেইচ্চা শালারা জল্লাদ   
হবে।
শিশুরা ধর্মপুস্তক পড়ে.... কিন্তু মর্ম বুঝাইবার কেউ নেই।
আজ পোয়াতি শহরে বাঁশের মাচান হৈছে.... বলতেছে পুঁথিবাদী চেতনায় বিশ্বাসী হও!
........ আরে পড়েন তো সবাই বোঝেন কয়জন।

শরৎ মাখা আদর

উত্তম কুমার দাস

শরৎ মাখা আদর গুলান বৃষ্টিভেজা পায়ে বিকেলটারে ছুঁইয়া আইলো।
রমেন খুড়া আর বশির চাচা ভিজা পায় একটু খুনসুটি করতে চান প্রকৃতির সাথে,
মৌন প্রকৃতি একটা সময় মানুষ হইয়া যায় 
আরে মুক প্রকৃতিরে আপাতভাবে একটা সময়ে হাবা কালা মনে হইতেই পারে,

সঙ্গমের আগে তো বেহায়া প্রেম গুলা সুপ্ত মনে কদম কেতকী শিউলি ছুঁতে চায়

কিন্তু মেঘমালা অত স্পর্ধা সহ্য করবে কেমনে,
তাই শেষমেষ ব্যাকুল হৃদয়ে কান্না হইয়াই ঝরে পড়ে।

ফাঁদ

উত্তম কুমার দাস 

মিঞা ভাই ফ্যাদ বুঝ ফ্যাদ
আমাগো ঘরে তো মাগ নাই সব শালা মাগী
হাপর ঝাপর কইরা সব লুইট্যা খাওনের চেষ্টা 
ফুলেরে তো দূরের থেইক্কা দেখন লাগে ওটা কি চটকানোর চিজ
   বাবুরাম,খেন্তি,চাপর খালু,আর 
ওই বুড়া বেটা সব শোনে
   বলবে কি শালারা কান কাটা
তবে ওরা সতর্ক....

মিঞা ভাই ফ্যাদে পা দিওনা।