তোমার আঙুল কি ঈশ্বরের হৃদয়ের মতো বিশাল



গান শুনাও নিঃসঙ্গ নদীর বেদনা পাশে রেখে। প্রকাশিত করো তোমার সমস্তজুড়ে বিরাজ করা বাহারি সুর। কেড়ে নাও সমস্ত মনোযোগ; কেড়ে নাও যৌবন। পৃথিবীর নিকট আমাকে করো চূড়ান্ত উদাসীন। আমার সমস্ত ঘাতক শব্দ বের হয় তোমার উন্মাদ চোখ থেকে। তৃষ্ণার্ত বৃক্ষের ন্যায় আমাকে নিয়ে চলো তোমার প্রতিটি উপশিরায়৷ মস্তিষ্ক ফেটে যাচ্ছে অপ্রকাশিত ব্যথায়; এতো শব্দ তোমার মাঝে! বরং উড়িয়ে দাও বিরহবর্ণ চুলগুলো, মেলে দাও কণ্ঠ, আত্মহত্যাপ্রবণ যাপনের সুর। তৃষ্ণার্ত বৃক্ষের মতো তোমার প্রতিটি উপশিরায় নিয়ে চলো আমাকে। সুগভীর তিলের মতো ভালোবাসো, আমাকে মায়া করো সিগারেটের শেষ টানের মতো।


আমার আঙুল তোমার কাঁধ ছাড়া যায়না আর কোথাও। এইসব তুমিময় তীব্র রাতে বিষন্ন ঘুম পায় তোমার স্মৃতির অভ্যন্তরে। মনে পড়ে সেইসব সন্ধ্যার কথা, যখন তুমি আমার সমস্ত সাথে নিয়ে ফিরে যেতে মৃত্যুমুখি গহীন পাখির মতোন। তোমার কাছেই তো বিক্রি করেছি আমার আত্মা। আমাকে লুকিয়ে রাখো তোমার শাড়ির আঁচলের ভেতর; আমার মুখ-শরীর মুছে দাও তোমার অলৌকিক সুখমাখা আঁচলের প্রতিটি সুতোর স্পর্শে। ঢুকে পড়ি সেই সকল প্রেমের ভেতর– এইসব ছালছাড়ানো মাঝরাতে। আমাকে নাও তোমার ভেতর।


চাতক পাখির ন্যায় অপেক্ষা করছি তোমার জন্য– আমি ছাড়া যে সময়ের চক্রে তোমার কোনো অস্তিত্ব নেই; তুমি যে কেবল প্রকাশিত হও আমার হৃদয় দ্বারাই। 

আমার হৃদয়ে খোদাই করা আছে তোমার অস্তিত্ব– তুমি কখনো নিঃশেষ হবে না পাপড়ি! তোমার এই ঐস্বর্যের জোরেই– তুমি পোড়াচ্ছো আমার হৃদয়কে। 

তুমি যে প্রাচুর্যের সমুদ্র; আহা– তোমার অস্তিত্বের সাক্ষী হতে পেরে আমার হৃদয় সৌভাগ্যবান। তুমি আমাকে আরও দুঃখ দাও– আর পুড়ে যাওয়া হৃদয় নিয়ে আমি অপেক্ষা করবো তোমার চুম্বনের জন্য। 

আমার এপিটাফে ভাসতে থাকবে তোমার অস্তিত্ব– অনন্তকাল।


তোমার থেকে দূরে থাকাটা যেনো
কবরে একা থাকার মতোই নিঃসঙ্গতা!


কতো লক্ষ্য জন্ম কেঁটে গেছে, তোমাকে পাঠ করিনা! তোমার সমস্তজুড়ে ব্যাবিলনের কারুকার্য। তোমার মতোই নিভৃতে আত্মগোপন করেছে যাবতীয় দুঃখবাদী শিল্প। এবারের বিচ্ছেদে কোথায় আমি আশ্রয় নিবো বলো? তোমার আঙুল কি ঈশ্বরের হৃদয়ের মতো বিশাল? অথচ আমি তোমার রক্তের স্থিরতাই পাইনা! আমাদের প্রেমের উপশিরা যে বিচ্ছেদ ছাড়া রচনা করেনি আর কিছু। একমাত্র ঈশ্বরই এর জন্য দায়ী। চলো, ঈশ্বরের মহাপরিকল্পনাকে পরাজিত করে আমরা ফিরে যাই আমাদের অস্তিত্বে, ফিরে যাই উলঙ্গ অবস্থায়।