সাম্য রাইয়ান


প্রথম অঙ্ক
বাড়ির সামনে শিরশির হাওয়া৷ আবহাওয়া দপ্তর বলেছে যখন-তখন বৃষ্টি নামতে পারে, আর তা হলেই শৈত্যপ্রবাহ, বিলম্বমাত্র নয়৷ মাথায় অনেক তুষার, লেখা হয়নি৷ এদিকে বৃদ্ধ এক সমানে কেশেই চলেছেন—বাতাশ বাড়ছে৷ কমে আসছে আয়ু৷ তবুও কিছুটা সুখ, এই মাঝরাতে৷ কে ডাকে কাকে! অহেতুক কুকুরের চিৎকার৷

দ্বিতীয় অঙ্ক
অবিকল শৈত্যপ্রবাহ৷ রাতের অস্তিত্বজুড়ে অন্দোলিত ধোঁয়া৷ তার মাঝে এইটুকু হেঁটে চলা পথ৷ সব চুপচাপ, সেই লাল পুচ্ছ মোরগও, যাকে সারাদিন ধাওয়া করি আমি৷ ঘুমালো নাকি? ওরা যে কীভাবে ঘুমায়, দেখিনি কোনদিন৷ কতকিছু দেখা হয়নি এখনো! রাতের মধ্যবিন্দুতে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন হাওয়া খাই যখন, একটি ছেলে মাথা নীচু পিচঢালা রাস্তার দিকে চোখ; এইটুকু বলে যায় শুধু— ‘ভালো আছো?’

তৃতীয় অঙ্ক
উঠোনে আবার চিরায়ত শীত৷ টুপটাপ শিশিরের ধ্বনি শোনা যায়৷ থেমে থেমে, ধীরলয়ে, একসাথে কয়েকটি বিন্দু পতন! পথ আটকায় জুডো৷ ওর ছানারা নেই, বান্ধবী নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে৷ কিছুটা ধমক ওর প্রাপ্য; এই শৈত্যপ্রবাহেও টো টো! এদিকে আমিও হাওয়ায়, পতিত হচ্ছি টুপটাপ!

চতুর্থ অঙ্ক
আজ কেউ নেই৷ এটুকু হবার ছিল৷ তবু হাঁটাচলা পথে ঘুরেছি বাথান৷ মেনে নিলে নেয়াই যায়৷ অথবা অন্যরকম পথ৷ শীত গেছে, সব গেছে—আসবে আবার৷ শোনাবে অযুহাত, চেনাপরিচিত৷ দিনমান খুব ছোটাছুটি খুব৷ তথাপি হলো না কিছু জীবনভর৷ তবু মনে হয়, কী যেন হলো না কোথাও! কিছু কি হলো? না বুঝি৷ অযথা এইসব দুর্ভেদ্য হাহাকার৷ চা খেতে হবে শনিবার রাতে৷ পাওয়া কি যাবে তাকে? গেলে যেতেও পারে এই অন্ধকারে৷ যদিও ফাঁকা পথ দেখা গেল, ফুটপাত ধরে একসারি কুকুরের ঘুম৷ তার পাশে একজন ঘুমন্ত মানুষ৷ আমি ওঁর পাশ দিয়ে হেঁটে যাই৷

পঞ্চম অঙ্ক
কুয়াশারা কোথায় গেল, মখমল ধোয়া? যেদিকে যাচ্ছে যাক, আমার না ভাবলেও হবে৷ তুমিও ভেবো না কিছু; যতদূর নীল চোখ, যতদূর সমুদ্র৷ কেউ কেউ এলো, ততটুকু দেখা হয়ে গেল৷ তুমুল গাড়ির শব্দ৷ কুকুর চুপচাপ৷ ডাকাডাকিহীন৷ ভেবেছি এবার কিছুটা ভালোবাসতে হবে৷ পুরনো টুপিটাও ছেড়ে দিতে হবে৷

[দিনহীনের দিনলিপি/ ২০২৫]