New

শ্বেতপত্র

মেহেদি হাসান তন্ময় পাঁচটি কবিতা






অভিপ্রায়


সন্ধ্যার মোলায়েম অভিপ্রায় প্রেমের ক্ষুধার গান গায়।


যাদের জীবন থেকে

          গান মুছে গেছে!

বৃষ্টি মুছে গেছে,

          রঙ মুছে গেছে।

শিহরণ মুছে গেছে!

          অরণ্য মুছে গেছে?


সাবালিকা এসে তাদের শরীরে সূর্য হয়।

ইতস্তত বেরিয়ে এসে, চিহ্নিত করে অসুখ।

আমি গোধূলির গায়ে ত্বক ও হৃদয় মাখি!



পথ


যে পথে চলেছি, ভেতরটা ভরিয়ে তোলে খুশিতে।

আবার যে শুধুই বরফ আর নিঃসঙ্গতা,

আমার মন তা মানতে চায়নি।

সূর্য সেখানে কখনো অস্ত যায় না।

আত্মজায় চিরজন্ম সৌন্দর্য ও আনন্দের

অনন্ত একটি দীপ্তি, অনন্ত আলোকময়।

যে সকল ভূখণ্ড কেউ দেখেনি,

আমি হয়তো হেঁটে যাব সেই পথে।

যেখানে কোনো চিহ্ন পড়েনি পায়ের, সাগরে সাগরে।

আমি ঘুরতে পারব না!

আমি কি নাবিকের জীবন বেছে নিই?


একটা দুঃখবোধ ছিল আমার ভেতর,

আত্মারা স্বর্গের তেপান্তরে উঠে গেল।

সারাজীবন সেইসব স্বর্গে বুদ হয়ে রইলাম,

ভেতর থেকে উঠে আসা আলো।

দুচোখে মাখামাখি করে অন্ধকার;

তুষার আমাকে ঘেরাও করে ফেলেছে।

জলে ভাসমান একটুকরো বরফখণ্ড!

ছুটেছিলাম জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পিছু

সেগুলো সব হাস্যকর হয়ে উঠলো।



বিরানভূমি 


সারা শহরে অন্ধকার।

হটাৎ একটি বিমান উড্ডয়ন হল,

মনোবিভ্রমের পাশে অক্টোবর।

বৈদ্যুতিক গিটারে টানছে স্বরলিপি,

পিয়ানোকে ঘিরে নেমে আসছে স্বরগুলো।

এই সীমানাহীন ক্ষেত্রকে ভরে

দেয়া হয়েছে খাপের ভেতরে।

সেই আগুনপাখিটি ফিরে যাচ্ছে নীড়ে।

সেই চিনাবাদামের ক্ষেতের আল ধরে,

যেখানে কাদামাটি রাস্তায় পারাপার হচ্ছে তড়িৎ।

আর যে জন আজীবন লালন করেছে সংকেত;

তার কল্কিতে যে বারুদ রাখা তার নিচে।

জেগে আছে ঘুমহীন ছোট ছাদ,

ঘুমিয়ে পড়া অথবা জন্ম না নেয়া;

মানুষের ভাষায় চলেছে সুবর্তনিয়া।




পর্যবসিত


পৃথিবী থেকে দূরে, এক স্থান আছে গোপনীয়।

স্পন্দন তাকে ডাকে, নম্রতার শেষ পর্যবসিত!

এইখানে ডেকো না তুমি, এর কোন শেষ নেই।

যতদূর থেকে ডাকা যায়, ততটা কাছে আমি।

কমনীয় ত্বকের ভেতরে, বের হয়ে আসে স্নান;

সরোবরে থোকা থোকা ফুল, গুঞ্জনের সময়ে!

চিৎকার করে জানাচ্ছে, জীবনের সুগন্ধের ব্যাঞ্জন।

জন্মের গভীর থেকে, নেমে আসে যে স্বরলিপি।

তার বোবা চোখ থেকে, ঝরে পড়ছে ক্লান্তি!

গাঢ় কিছু দাগ, ফোঁটা ফোঁটা ঘামের ভেতরে

যতটা উৎকর্ষিত হয় প্রাণ, সেখানে থামে চুমু।

ফুটন্ত গ্রহের ভেলায় ডেকে তুলছে যৌবনের ঝড়,

এইখানে ডুবে আছে মোহ, প্রাঞ্জলতার কান্না।

হয়তো দূরে থাকা কোন হৃদয়, ডাকছে জীবন যাবৎ।



অরণ্যে

 

বক্ষে নিক্ষেপ করি,

চেরী ও ঘুমন্ত গোলাপের সৌন্দর্য।


মেঘকে

    খর্বাকায় কোরে

                চলো বরফের রাজ্যে,

                              গভীরতায় স্পর্শ করো।


আমার পিতার চোখে থাকুক দৌহিত্র,

মায়ের চোখে জানুক দৌহিত্রী।

 

নিরবতার উচ্চারণকে যাপিত করে চলো সুরেলা মননে।

 

শিশির ধোয়া পায়ে অশ্রুমোচন;

সেই ছায়ার উপর চোখ রাখি।

 

অদৃশ্য পাখা ওড়াবার শব্দ, কৃষ্ণ অন্ধকারের মশৃণ স্পর্শ।

কপালের একবিন্দু ঘাম সূর্যকে সুপক্ক করে তোলে।

 

প্রয়োজন ও দূর্বলতার মাঝখানে দোলায়মান।

চিরন্তন একই অবস্থানে,

                                   দীর্ঘকাল-

 

অরণ্যের বাতাস আমাদের কথা ফুটিয়ে তুলছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ