❀
কোন এক বিকেলবেলায় রাস্তায় পারাপার হবার জন্য দাঁড়িয়েছি। ট্রাফিক কমছে যানজটের শহরে ধীরেধীরে। হঠাৎ একটি মেয়ের দিকে তাকাতেই বুকটা প্রশস্ত হয়ে উঠলো, নিশ্বাস সজোরে আঘাত করলো হৃদয়ের গভীরে। যদি কখনো নর্থ সী দেখেন তাহলে বুঝবেন নীল জল কতটা ঘন নীল হতে পারে। তার চোখদুটো অবিকল দর্পনের ঘন নীল। সোনালী রোদে রূপালী প্রজাপতির মতো তার চুল যেন সূর্য এসে ঝলসে গেছে। দেহচ্ছন্দ তার জেমস বে এর মতো গভীর স্নোফল। যেন তরঙ্গিনী কেমন এঁকেবেঁকে আপন শরীর ঢাকতে অপ্রস্তুত। সবচে লক্ষণীয় তার লজ্জ্বাবশত মুখ। লজ্জ্বা বলতে আমরা যা বুঝি মধ্যযুগীয় পুরনো গল্প থেকে। কাকে দেখে সে সহসা হেসে উঠবে- লাজুক হাসি, আজকের দিনে এসব পাওয়া যায় না। আর দেশে থাকলে যদিও এসবের কদাচিৎ ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। যদিও এখন মেয়েরা একে ভূষণ হিসেবে না দেখে বর্তমানে এড়িয়ে যেতেই অতি অভ্যস্থ। কিন্তু তার মুখে এখনো এই মধুর বিষয়টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হয়তো তাঁর ঠোঁট এতটা গোলাপি যে এক্সপ্রেশন না দিলেও তার লজ্জ্বার অবস্থা বুঝতে পারা যাচ্ছে। কিন্তু তার অবিকল এমন সৌন্দর্যে আবিভূত মনের হালচালে প্রেমে পড়তে বাধ্য। ভাবলাম তাকে আরো না দেখে থাকতে পারছি না। আরো আরো দেখার সাধ হচ্ছে। রাস্তা পার হলাম, একত্রে। তাঁর পিছু, তাঁর শরীর থেকে অপরূপ সুগন্ধ ছুটে আসছে। তাঁর সাথে আলাপ করতে হবে। সে ট্রেনে দিয়ে যাবার জন্য টিকেট কাটলো। আমিও। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে কোন অছিলায় তার সঙ্গে কথা বলবো সে সম্পর্কে ভাবছি। কিছুতেই কোনো হদিস পাচ্ছিনা। আমাদের মাঝে যেটুকু দুরত্ব অতেই উত্তাল কয়েকটি সমুদ্র পেরিয়ে কোন শব্দগুলো এই রূপবতী রমণীর দিকে ছুড়ে দিলে ভাববে কিছু তত্ত্বজ্ঞান না করে একঝটকায় মনস্থির করবে- এ পুরুষ আমার না হলে চলবে না!
প্রবাদ আছেঃ প্রেমে পড়লে নাকি বোকারা বুদ্ধিমান হয়ে যায়। প্রেমিকাকে পাবার ফন্দিতে আবিষ্কার কৌশল দেখে আর সবাই তাজ্জব বনে যায়। আর বুদ্ধিমানরা হয়ে যায় একদম গবেট। তাঁরা এমনসব কান্ডকারখানা করে বসে যে দশজনকে অবাক করে দেয়। এই জীবনে আমি উপলব্ধি করলাম আমি বুদ্ধিমান। এক ঘন্টায় এই অবিষ্কার করতে পারলাম না যে তার সাথে আলাপ করবো কোন কায়দায়। এহেন হৃদয়াভিরাম তত্ত্ব আবিষ্কার করেও মন বিন্দুমাত্র উল্লাসিত হলো না। বরঞ্চ বোকা বনতে পারলেই কোন এক অভিনব কৌশল বেরিয়ে যেত। ট্রেন আসে। আমরা দুইটিমাত্র প্রাণী ব্যাতীত আর কোন যাত্রী ছিল না স্টেশনে। তবু সে একটিবার ভয় বা নিরাপত্তার কথা ভেবেও আমার দিকে তাকায়নি। এটা ভেবে হৃদয় আরো দুঃখিত হয়ে উঠলো। ট্রেনে উঠে দাঁড়ালাম ঠায়। সে ট্রেন বিরতি- বিরতিহীনভাবে ঘন্টার পর ঘন্টা চলতে থাকলো। কত লোক মেয়েছেলে উঠলো নামলো কিন্তু সে আমার স্বর্গপুরী থেকে নামলো না। প্রেমে পড়লে নাকি ক্ষুধাতৃষ্ণা লোপ পায়। এক বেলার জন্য হয়তো বেলাটাই লোপ পায়। লাঞ্চ করা হয়নি- ওদিকে ডিনারের সময় হয়ে গিয়েছে। এমন সময়ে মাতা মেরির করুণা হলো। আমার পেটে হুলুধ্বনি জেগে উঠছে। তখন সে উঠে গিয়ে এক কামরা থেকে অন্য কামরার দিকে চলতে শুরু করলো। আমি চললাম ঠিক তার পিছন পিছন। ভাবলাম যদি সে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায় আমার উপর! মনে হবে না- আমি সৌরজগৎ কোলে নিয়ে থাকবো, ধুত্তোর তার উপায় নেই। তাঁর পিছন পিছন সরাইখানায় ঢুকলাম। কামরাটা বেশ গুমোট আর লোকারণ্যে ভর্তি। সেখানে একটিমাত্র টেবিলখানি রয়েছে দেখতেই আমি ভাবলাম, তোমার জন্য একশোটি মোমবাতির আলো উপহার। ভাবলাম এবার কোন উপায় নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে। বুদ্ধিমান, বুদ্ধিমান! কোন ফিকিরই জুটলো না। অথচ মেয়েটি দুই হাত দুরত্বে নিশ্চিন্তে বসে বই পড়ছে। বাইরে ঝড়ের আবহ তৈরি হয়েছে। বাতাস অতি তীব্র হয়ে উঠছে। আমি জানালা বন্ধ করতে গিয়ে জানলার সজোরে আঘাতে বৃদ্ধাঙ্গুলি আঙুল থেতলিয়ে ফেললাম। সাথে সাথে রুমাল দিয়ে চেপে ধরলাম আঙ্গুলটাকে। সে দেখে বললো, “দাঁড়ান আমি ব্যান্ডেজ করে দিই। আমার কাছে ভায়োডিন আছে।” তারপর সে ব্যান্ডেজ আঙ্গুলটার শাস্ত্রসম্মত ডাক্তারি পদ্মতিতে বাঁধলে বুঝলাম সে ডাক্তারি পড়ে নাহলে এমনকরে আনাড়ি লোক বাঁধতে পারে না। তাঁর হাত অতি মশৃণ। জানালা যতটা ব্যাথা দিয়েছে তার থেকেও বেশি প্রশান্তি পেলাম তার অই হাতের স্পর্শে।
“না, না। ধন্যবাদ, ধন্যবাদ। আপনি কেন মিছে? উহ, বড্ড লাগছে। ব্যাস এতেই হবে।” এইসব বলছি আর তার হাতের পরশের সুখ নিচ্ছি। প্রথম পরশে সর্বাঙ্গে বিদ্যুৎ খেলে যায়, বলে না? বড় খাঁটি কথা। আমি আঙ্গুলে ব্যাথা পেয়েছি ফলে সেখানে কোন অনুভূতি থাকার কথা নয়। তবু আমার অবস্থাটা কি দাড়িয়েছিলো বোঝাই কি করে। মেয়েটি বোধ হয় টের পেয়েছিলো, কারণ একবার চকিতের তরে ব্যান্ডেজ বাঁধা বন্ধ করে আমার দিকে তাকিয়েছিলো। তাতে ছিল বিষ্ময়, প্রশ্ন এবং হয়তো বা একটুখানি খুশির রেশ। তবে কি আমার হাতের স্পর্শ? কোন সাহসে এ বিশ্বাস মনের কোণে ঠাঁই দিই, বলুন। তারপর আমি সুযোগ পেয়ে আরম্ভ করলাম নানা রকম কথা কইতে। আমি যে পরিচিত হবার জন্য জান কবুল সেটা ঢেকে চেপে। কখনো নুনটা এগিয়ে দিই, কখনো ব্যান্ডেজ বাঁধা আঙুলটা একটু নাড়িয়ে নিই। সে বলে, “ওটাকে ওভাবেই থাকতে দিন। ভালো থাকবে।” কখনো বা বলি, “মাছটা খাসা ভাজা হয়েছে, আপনি খান না একটা?” সেও খায়। কোল্ডড্রিক্সস এগিয়ে দেয়। কথা বলে মাথা নাড়ে ইত্যাদি। নখ থেতলিয়ে যাবার অছিলায় কথা বলে সুন্দরীর সাথে মনটা একটু মোলায়েম করতে পেরেছি বলে মনে একটু ক্ষীণ আশার সঞ্চার হলো। মেয়েটি লাজুক বটে কিন্তু ভারি ভদ্র। আমার ভজর ভজর মন দিয়ে শুনলো, সেও বললো কিছু অভিজ্ঞতা। একবার ব্লাস করলো। সে যা গোলাপি আর তার শরীরের মশৃণ চামরার সাথে যা পরিধান করেছে তাতে আরো সুন্দরী লাগছে। সে বললো, “আপনি কী এই স্টেশনে নামবেন?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ। আমার আর আপনার পিছু নেয়া সম্ভব না। সে বলে, “মানে?” আমি বললাম, “আমার বাড়ি এসে গেছে।”
সে বলে, “ওহ। আমি কাল সাতটার ট্রেনে আবার ফিরে যাবো। আমিও এই স্টেশনে নামবো।”
আমি একটু উচ্ছ্বসিত হয়ে বললাম, “ঠিক আছে।” মনে মনে বললাম, “কাল আবার দেখা হবে।” তারপর স্টেশনে একত্রে নামলাম। যখন সে গুডবাই বলে হাত বাড়ালো আমিও তাঁর হাত ধরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম। হটাৎ কারো সাথে ধাক্কা লেগে সে এসে আমার উপরে পড়ে গেল। তার দেহের সাথে দেহ লাগতেই সে ঈষৎ হেসে উঠলো। তারপর সে চলে গেল। আমি পুনরায় তাকে দেখলাম। প্রেমে পড়লে মানুষের নাকি পাখা গজায়। হবেও-বা! কিন্তু একথা নিশ্চিত জানি মানুষ তখন চোখেমুখে এমন সব ভাষা পড়তে জানে যার জন্য কোনো শব্দরূপ ধাতুবিদ্যা মুখস্থ করতে হয় না। তবে সে পড়াতে পারে বিস্তর কাকতালীয় বিষাদ।
সে চলে যাবার পরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম স্টেশনে। পাশেই আমার বাসা। তাই তাড়াহুড়ো না করে একটু পরেই বাসায় গেলাম। পরদিন সাড়ে ছয়টার দিকে স্টেশনে গেলাম। গিয়ে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরে তাঁর দেখা পেলাম। সে আমাকে দেখে হাসলো। বললো, “আঙুল ঠিক হয়ে গেছে?” আমি বললাম, “না। আপনি ঠিক করে দেবেন তাই অপেক্ষা করছিলাম।” সে বলে, “আচ্ছা। আমার যা করার তা করেছি। আর কিছু করতে পারবো না।”
“ঠিক আছে। আমিও আজ শহরে যাচ্ছি” বলতেই ট্রেন চলে এলো। আমি তাকে আগে তুলে দিয়ে নিজে উঠলাম। বাইরে ঝরো হাওয়া বইতে শুরু করলো খানিকক্ষণ পরেই। আর এবার সে নিজেই জানালা বন্ধ করে দিলো। আমি হাসলাম। সেও একটু হেসে বলে, “হাসছেন কেন?” আমি বললাম, “আপনি আমার চেয়েও সাবধান।”
সে বললো, “হ্যাঁ, কাল তো জানালা বন্ধ করার সময়েও তো অন্যমনস্ক ছিলেন” আমি কথা ঘুরিয়ে বলি, “হ্যাঁ, অনেকদিন হয়ে গেছে বৃষ্টিতে ভিজি না।” সে বলে, “আমিও তো। ছোট্টবেলায় বৃষ্টিতে ভিজলে ঠান্ডাজ্বর আসতো। তাই ভিজতে বারণ করতো বাবা-মা। এখন অবশ্য আর ভিজতে ইচ্ছে করে না। কালোমেঘের বৃষ্টির পানিতে জীবাণু থাকে। শুনুন, আমি কাল রাতে ঘুমাইনি। আজ সকালেও ঘুমাইনি। আমি ঘুমাবো।” আমি বললাম, “ঠিক আছে। ঘুমান।” আমি ইয়ারফোনে গান শুনতে শুরু করলাম। সে ঘুমানোর চেষ্টা করছে। আমি কিছুক্ষণ তাঁর দিকে থাকিয়ে থাকলাম। সে একবার চোখ খুলে তাকালো আমি তখনো তাকিয়ে আছি। আমি বললাম, “ক্যাসাব্লাঙ্কা শুনছি। আপনি শুনবেন?” “দিন”, বললো সে।
তারপর আমরা দুজনেই শুনতে শুরু করলাম। সে আর তাকায়নি। আমি ভাবছিলাম তাঁর নামটাই জানা হয়নি। আমিও শুনতে ঘুমিয়ে পড়লাম। কখন ঘুমিয়েছি জানিনা। ঘুম থেকে উঠে দেখি সে নেই। একটু চিন্তা হচ্ছিলো প্রথমে। পরে ভাবলাম হয়তো ওয়াশরুমে গেছে হয়তো। আমার ইয়ারফোন দেখলাম গ্রাডার দিয়ে বেঁধে রেখেছে টেবিলে। আমি সেটি ধরে প্যাঁচটা খুলতে শুরু করতেই সে আসলো। তাঁর চুল ছেড়ে দেয়া। আমি বললাম, “আপনার চুল কি এই রঙেরই নাকি রঙ করেছেন?” সে বলে, “রঙ করেছি।”
বললাম, “ওহ আচ্ছা। আর চোখ?”
সে বলে, “এটাও বদলে যায় মাঝেমধ্যে।”
“আচ্ছা, অদ্ভুত ব্যাপার তো! আচ্ছা গানটি কেমন লাগলো?”
সে জানায়, “ভালো। তবে কোথাও একটা শুন্যতা রয়েছে গানটাতে।”
আমি বললাম, এই গানটার একটা সত্যতা শেয়ার করি?
“হুম, প্লীজ।”
“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে তৈরি একটা চলচ্চিত্রকে কেন্দ্র করে গানটি বানানো। সেই সিনেমার নামও কাসাব্লাঙ্কা। কাসাব্লাঙ্কা মরোক্কোর একটি সমুদ্র বন্দর। আটলান্টিক মহাসাগরের পাশের একটি শহর।”
সে একটু ভ্রুক্ষেপহীন হয়ে বললো, “আচ্ছা। বেশ। সিনেমাটি দেখতে হবে। গান ভালো লেগেছে। মিউজিকটা খুব সুন্দর।”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, সেজন্যেই শুনি। অদ্ভুত মিস্ট্রি আছে এই গান বা সিনেমায়।”
সে বলে, “বেশ তো। আমাদের জীবনে একটু রহস্য না থাকলে কি চলে! এই বলে সে একটু ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো।”
আমি বলললাম, “আপনার হাসিতে কেমন একটা উচ্ছৃঙ্খল ভাব আছে।”
সে চোখ বড়বড় করে বলে, “কীভাবে?”
আমিও ঈষৎ হেসে বললাম, “আপনি রহস্যময়ী।”
সে তাঁর চোখের সামনের চুল সরিয়ে দিয়ে বলে, “আমি সেসব বুঝিনা। আমি আমিই। আমি আমার মতো জীবনযাপন করি। আমার যা ইচ্ছে হয় বা আমার সাব-কনশাস মাইন্ড যা ভালো মনে করে আমি তাই করি। কারো কথা শুনি না। মনের ভাষাই শুনি। এই যেমন আমি আপনার সাথে কথা বলছি। এটা না বললেও হয়তো আমার কিছু হবে না। ইগ্নোর করলেও কিছু যাবে আসবে না আমার।”
তাঁর কথা শুনছিলাম আর তাঁকে দেখছিলাম। শেষে বললাম, “স্বাধীনচেতা মেয়েদের বৈশিষ্ট্যই এটা। এটাই গোপন রহস্য। যাই হোক, পরের স্টেশনে নেমে যেতে হবে।”
সে তাঁর ব্যাগ নিয়ে আয়না বের করে নিজের চেহারা ঠিক করে নিলো। বললাম, একটু সময় আছে আমরা পরিচিত হতে পারি? হ্যাঁ, শিওর। আমার নাম আমিতা মালাকার। ওহ, আমি ইরণ। কাজ কী করেন? আমি একজন মডেল এবং সাইকিয়াট্রি। আর আপনি? আমি একজন গায়ক এবং ইঞ্জিনিয়ার। বাহ, বেশ তো। এরমাঝেই ট্রেন চলে এসেছে গন্তব্যে। আমরা নামলাম ট্রেন থেকে।
সে আমাকে বললো, “কখনো মাথায় সমস্যা হলে জানাবেন।”
আমি বললাম, “মাথা? ওহ তাহলে আপনার চলভাষ দিন। আমার মনে হয় কালকেই দরকার হবে।”
আমিতা বললেন, হ্যাঁ, আমরা এই বিষয়ে কফি পান করতে পারি। দুজনে হেসে যার যার থেকে সরে নিজেদের গন্তব্যে গিয়ে জানালাম নিজেদের আবার দেখা হবে বলে।
_._




1 মন্তব্যসমূহ
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
উত্তরমুছুন(তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)
অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
ঈদ মোবারক🌙
অমার্জিত মন্তব্য করে কোনো মন্তব্যকারী আইনী জটিলতায় পড়লে তার দায় সম্পাদকের না৷