দিনলিপি-রাতলিপি
[১]
কী অদ্ভুত! কী আশ্চর্য তোমার শরীর! ভাঁজ খুললেই বেরিয়ে পড়ে জিভ—আলগা হয় শক্ত হয়ে লেগে থাকা নিপুণ মুখোশ। ঘন হয়ে নামে শ্বাস,/নিঃশ্বাস। কী বিস্ময়— কী বিস্ময়কর আয়না তোমার তুমি— উত্তল/অবতল ঢেউ— কী বিপুল সমতল তট!!— চুঁইয়ে পড়ে লালা। বিকশিত হয় ভয়ানক চকচকে দাঁত। আমার আমাকে চেনাও তুমি। এই শেষ বিষণ্ণ বিকেল—ক্ষীণ আলোর সংলাপ আর, পৃথিবীর ধূসর ধূলোয় এমন পতন—এমন আকস্মিক মৃত্যুর সাথে শেষ চোখাচোখি— তুমিই পারো। হে নারী!, হে অগ্নি!,, হে আমার জন্মদুয়ার জঙ্ঘিণী!
(ফার্মগেট)
[২]
মহাকালের প্রগাঢ় এক চুম্বনই আমার ইহকাল। একটা পাথরের পাশে বসে আজ সারাদিন এই প্রতীতি ফুটে উঠেছে আমার সর্বাঙ্গে। যতোই আমি নিজের দিকে তাকাচ্ছি, আমার বাঁ চোখের কুঞ্চনে আমার ভাবনা-দগ্ধ দুপুর আজ স্বতঃসিদ্ধ বিগলনে মোহিত করছে মানুষের বোধগম্য আশা। বুঝতে পারছি, আমার জন্যই রাখা আছে বিস্তীর্ণ পিছুটান। আমার শরীরের শৈশব। আমার পাঠযোগ্য কৈশোর। আমার আকাঙ্ক্ষার বিপুল যৌবন-রোদ। আর রয়েছে অপরিণামদর্শী অপূর্ব ঈর্ষার তীব্র প্রণয়। এদ্দিন যেই সীমানা পেরিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, যেই দাগ, যেই সীমারেখা নিরূপণ করতে চেয়ে জীবনের সীমান্তের দিকের ওইপারে যেই দৃষ্টি নিক্ষেপ করে এসছি এতোকাল, এর কোনো উত্তর আসলে কোথাও নেই ওখানে। সর্বাত্মক
আমার ইহকাল এক হিংসার ধূলি।
আমার ইহকাল এক অন্ধত্বের আলো।
আমার ইহকাল এক শুভ্র সাদা স্থৈর্যও।
আমার ইহকাল এক নদ-স্রোতের মধ্যে গতিময়তাও।
আমাকে ভালোবেসে বাঁচিয়ে রাখতে হবে পৃথিবীকে। মুহূর্তের প্রশ্বাস উপুড় করা এই রৌদ্রময় দুপুর। ওঃ আমার নিঃস্বার্থ পাথর। ওঃ আমার নৈঃশব্দ্যের প্রত্যয়। শরীরের অশ্রুতপূর্ব অবাঞ্ছিত শব্দেরা—
(উত্তরা)
[৩]
ঘুম ভাঙতেই চোখে পড়লো আজ একটা উজ্জ্বল শুক্রবার ফুটে আছে বাইরে। আমার আধখোলা জানালা গলে ঢুকে পড়ছে ওর প্রাণময় দ্যুতি। বাতাসে দুলছে বৃক্ষরাজির প্রগাঢ় সম্মোহন। আর পাখিদের ডানায় মেখে আছে আজ অন্তরীক্ষের অবারিত নীল। আমাকে আড়মোড়া ভেঙে উঠে পড়তে হবে এখন। সমগ্র চৈতন্য সহ এই দিন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়েছে ইতোমধ্যে। প্রশ্বাসে প্রশ্বাসে মানুষ ও পাখিদের হৃদয়রাজ্যে কী এক আশ্চর্য প্রশান্তির সুন্দর যে বইছে তা আমি অনুভব করতে পারছি ঠিক। সেই সাথে শুনতে পাচ্ছি সেই আহ্বান: এসো, এই শুক্রবার তোমার জন্যই প্রস্ফুটিত গোলাপ হয়ে আছে। শ্বাস নাও। ঘ্রাণে ঘ্রাণে নেশাতুর হয়ে ওঠো জীবনের প্রতি। জীবন সুন্দর। আর সুন্দর শুক্রবার।…
(শাহ্ মখদুম এভিনিউ)
[৪]
কী আশ্চর্য দৈহিক পৃথিবী এই—
কী অদ্ভুত মানুষের মতো শরীর আমার!!
(রবীন্দ্র সরণি)
[৫]
নিজেকে শুকোনোর জন্য প্রলম্বিত করি আমার ছায়া। আর বৃষ্টিবিন্দুগুলি নেমে আসে কাঁধ বরাবর। সেই সাথে গড়িয়ে নামে আমার কান্নারাও। তুমি আজ কোন গ্রহে আছো জানা নেই। জানি না সেখান থেকে কোনও আলো এসে আদৌ পৌঁছায় কি না পৃথিবীতে। অথবা তোমার ছায়া এসে আমার ছায়ায় কোনও গ্রহণ সৃষ্টি করে কি না তা-ও বুঝতে পারি না। শুধু তোমার নামের আদ্যক্ষর আমার গড়িয়ে নামা জলের সাথে মিশে একটা হাহাকার সুর তুলতে চায় মাঝেমধ্যেই। একটা শূন্যতার শব্দের ঔরসজাত ধ্বনির থেকে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে চায়। জানতে চায় কেমন আছো তুমি। ভালো আছো তো?
সমগ্র সকাল সূর্যের নিচে দাঁড়িয়ে থেকেও আমার শুকোনো হয় না। ভেজা শরীর নিয়ে আর ভেজা চোখ নিয়ে আমি একবার আকাশের দিকে তাকাই আর একবার অন্তরাত্মার দিকে। তারপর রাত্রি নেমে এলে ঘন হয়ে আসে কবেকার সব জমাটবদ্ধ দীর্ঘশ্বাস। আমার ভালো লাগে না।…
(…বাইলেন)
[৬]
চেনা পৃথিবীর নিয়মগুলো একটা সময়ের পর এসে বদলায়। অথচ বদলায় না মৃত্যু।
(হলি ফ্যামিলি…)
[৭]
অগোচরে অনেক বড় হয়ে গেছে ওইসব অবাঞ্ছিত শরীর-কণা। শরীরের ভেতর ছড়িয়ে পড়েছে মৃত্যু। এখন অপেক্ষার পালা। মৃত্যুকে জীবনের চাইতে বড় হতে দেখবো আমি? নাকি জীবনের জোরে মৃত্যুকে আমৃত্যু নিশ্চিহ্ন করে দেবো? কেটে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবো শরীরের সব ভয়?
ওঃ মায়া! ওঃ প্রেম! তুমি তো শরীরের চেয়ে বড় নও—
(সাস্ট)




1 মন্তব্যসমূহ
تَقَبَّلَ اللَّهُ مِنَّ وَ مِنْكُمْ
উত্তরমুছুন(তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম)
অর্থ: আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
ঈদ মোবারক🌙
অমার্জিত মন্তব্য করে কোনো মন্তব্যকারী আইনী জটিলতায় পড়লে তার দায় সম্পাদকের না৷