New

শ্বেতপত্র

বাসি ফুলের মালা/ স্বাগতা বিশ্বাস





তুমি যে কৃষ্ণচূড়া গাছের কাছে এসে দাঁড়াতে রোজ

সেই গাছটির পাশ দিয়ে আজ আমি কুড়ি বছর পর  যাচ্ছি।

মনে হল গাছ নয় আমি তোমাকেই দেখছি

তোমার দেহপল্লব জুড়ে থোকা থোকা ফুল  তোমার সাধ আহ্লাদ পল্লবিত হয়ে মাটিতে ঝরে পড়ছে

আমি সেই গাছের ছায়ায় একটু বসব ভেবেছিলাম।

কিন্তু আমার পনেরো বছরের ছেলে বড় বড় পা ফেলে মহানন্দে তার দাদুর বাড়ির দিকে এগিয়ে চলেছে, তার বীরত্ব সে দাদুর বাড়ি চেনে --

সবার আগে গিয়ে দাদুকে জড়িয়ে ধরবে-- শিশু মনস্তত্ত্বের এই চৌকাঠেই সে আছে। 

আমাদের ছোট মেয়ে বলছিল-- মা এই গাছটির নাম কি? তার তলায় দেখো কত ফুল ঝরে পড়ে আছে, কেউ কুড়িয়ে নেয়নি কেন? 

আমাকে কয়েকটি ফুল কুড়োতে দাও।

আমি তোমার জন্য একটা মালা গেঁথে দেব।

তুমি তোমার কেশের বিনুনিতে জড়াবে!


আমার বুকটা ধড়াস করে উঠল -- 


আমি তাকে ধমক দিয়ে বললাম

তুমি এত হাবা মেয়ে কেন?

ফুল দেখলেই মালা গাঁথতে হবে! বাসি ফুলের মালা কাউকে পরাতে নেই তুমি জানো না? 

'এ গাছের ফুলমাল্য আমার কেশে আমার গলায় কেউ একদিন পরিয়েছিল নির্জনবেলায়

সে আলোয় আসেনি কোনোদিন-- এমনই ধুরন্ধর!' -- মনে মনে বললাম । 

যদিও আমার চোখ সেই মাল্যবানকে এখনও খোঁজে ! 


একথা আমি আমার সাত বছরের মেয়েকে বলতে পারিনি। আর কখনও পারব না। 

বলতে পারব না কুড়ি বছর আগের সে ফুলের মালা কোনদিন বাসি হবে না। 

      

          

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ