ছোট জীবন, স্বল্প তার পরিধি। অনেকে অনেক কিছুই করতে চায়। বিশ্বাস সেও করতে চায় তার সাধ্যের মধ্যে অনেককিছু। ছোট প্রাইভেট চাকুরী করে সে, পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচজন বাবা-মা ভাই-বোন। পড়ালেখা কম, ছোট তার সার্টিফিকেট। বড় ইচ্ছে থাকলেও বড় চাকুরীর সুযোগ নেই। পরিবার-পরিজন নিয়ে তার স্বপ্ন ও ভাবনা। কোন একদিন সকালে ঘুম থেকে জেগে তার পোলাও খেতে ইচ্ছে জাগল। কতদিন ভালমন্দ খাওয়া হয় না। বাড়িতে মা-বোনকে বললো পোলাও রান্না করতে। সেভাবে বাজারও করে দিল। তরিঘড়ি করে। অফিস যাওয়ার সময় হয়ে এলো, খাবার খেয়ে অফিসে যেতে হবে। তার ঘরে খাবার আসলো কিন্তু পোলাও না। সে দেখে বললো- প্রতিদিনে যে খাবার খাই,সেটাই তার বোন বললো- পোলাও রান্না হয়নি। দুপুরে যেন রান্না হয়- বলে কাজে চলে গেল। কাজে কাজে দুপুর ঘনায়ে বিকাল হয়ে এলো- হঠাৎ তার মনে পড়ে গেল দুপুরের খাবার সময় শেষ বিকাল। তখন বাড়িতে ফোন দিল। জিজ্ঞেস করলো পোলাও রান্না হয়েছে কি- ফোনে উত্তর এলো না- পোলাও রান্না হয়নি শুনে মনটা ভারি হয়ে গেল, তবে পোলাও খাওয়ার ইচ্ছে তীব্রতর। অনেকটা মাথায় উঠে গেছে। পোলাও খেতেই হবে। পাশে-দূরে হোটেলে পোলাও নেই কিছুক্ষণ আগেই শেষ হল- এই কথা শুনে-শুনে মেজাজটা আগুন হচ্ছে আর মনটা পোলাও এর জন্য ব্যাকুল হচ্ছে। পেটে খিদে অন্য খাবারে পেট ভরালো। তবু সে পোলাও খুঁজতে থাকে এবং বাড়িতে ফোন দিয়ে পোলাও-মাংস রান্না করতে বলে। অফিস শেষ করে দ্রুত বাড়ি ফেরে হাত-মুখ ধোয়, খাবার টেবিলে বসে, দ্যাখে থালা-বাসন হাড়ি ফাঁকা কিন্তু বাড়িজুড়ে পোলাও এর সুবাস কিন্তু পোলাও নেই। কষ্ট আর রাগ বাড়তে থাকে আর মনে মনে বলে, বাড়ির সবাই খেলো পেটপুরে, তৃপ্তির ঢেঁকুর ফেলে আমার জন্যে একটু রাখলে মজা করে খেতাম। ভাবতে ভাবতে তার ঘরে আসে এবং পোলাও এর আরো বেশি গন্ধ পায়। ঘরের এখানে ওখানে কোনায়-কানায় খুঁজতে থাকে।কোথাও পোলাও নেই, কিন্তু পোলাও এর সুগন্ধটা বেশ ছড়িয়ে আছে। মন খুব খারাপ এতো মন্দভাগ্য হয় কি কারো? এসব চিন্তা করে ভাবতে ভাবতে বিছানায় হাত-পা সটান হয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবে আর পণ করে আর কখনো পোলাও খাবে না। ঘরের ছাদের দিকে চোখ যায় ছাদ নড়ে, কথা বলে কে ওকানে কথা নেই, ভাবে কেউ হয়তো লুকিয়ে আছে। পোলাও এর গন্ধও তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, নড়াচড়া বাড়লে পোলাওয়ের সুবাসও বাড়তে থাকে। সে তখন ভাবে নিশ্চয়ই কেউ ছাদে বসে পোলাও খাচ্ছে, উপরে কেউ না থাকলে, পোলাও না খেলে এমন সুবাস হতোই না। সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে ছাদের দরজা খুলে দ্যাখে কেউ নেই, তবে পোলাও এর গন্ধে নাক ভরে যাচ্ছে। আরও ভাল করে খুঁজে দ্যাখে ছাদের এক কোণায় চোখ জ্বল জ্বল করছে একটা গন্ধ-নকুল।